৮টি ছাড়া বাকি সব সিআইআই-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অসন্তোষ

৩০ জুলাই, ২০২৪ ১৩:৪২  

দেশের ৩৫টি ক্রিটিকাল ইনফরমেশন ইনফাসট্রাকচার (সিআইআই) সুরক্ষায় মাত্র ৮টি প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে নক, সক এবং সার্ট কঠোর ভাবে প্রতিপালন করছে না। পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের ব্যাংকিং, তৈরি পোশাক, টেলিকম ও বিদ্যুত ও জ্বালানী খাতে বড় ধরনের সাইবার হামলার আশঙ্কায় দেশ। রাষ্ট্রের অবকাঠামো ধ্বংসে বিদেশ থেকেও প্রচেষ্টা চলছে। এজন্য সম্মিলিত ভাবে সম্ভাব্য সাইবার হামলা প্রতিরোধে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপরিকাঠামোগুলোর নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্টদের সিকিউরিটি প্রোটকল কঠোর ভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিসিসি বৈঠকখানায় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা পর্যালোচনা নিয়ে অনুষ্ঠিত স্টেক হোল্ডার বৈঠক শেষে এই তথ্য দেন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের তালিকাভুক্ত সাইবার হামলার ঝুঁকিতে থাকা ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই নির্দেশনাসমূহ মেনে চলছে না এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে কেউই শতভাগ সাইবার ঝুঁকিমুক্ত নয়। ব্যক্তি বা কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠি ও রাষ্ট্রের প্ররোচনায় অনেক সাইবার হামলা হচ্ছে। আমরাও অনেকবার সাইবার হামলার শিকার হয়েছি। তাই সরকারি সকল প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে সকলকে বলবো নির্দেশনা সমূহ মেনে চলতে এবং অস্বীকৃত ও লাইসেন্স বিহীন অ্যাপ বা পোর্টাল ব্যবহার না করতে।

এসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ড. মুশফিকুর রহমান, টেলিকম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. কে. এম. হাবিবুর রহমান, এনটিএমসি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, এনএসআই পরিচালক কর্নেল শফিক, ডিজিএফআই ডিজি ব্রিগেডিয়ার নিজাম তামজিদ, বিটিআরসি’র সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক খলিল উর রহমান, বিসিসি নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার, সিটিটিসি প্রধান মোঃ নাজমুল হক জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক আবু সাঈদ মোঃ কামরুজ্জামান, আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বৈঠকের আলোচনা বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারিসহ ব্যক্তি পর্যায়েও সাইবার হামলা হতে পারে। তাই আমাদের ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সাইবার নিরাপত্তার প্রোটোকলসমূহ মেনে চলা উচিৎ। সাইবার হামলার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে ও আমাদের সাইবার প্ল্যাটফর্মকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে আমাদের নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (NOC), সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (SOC) ও সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (CIRT) এর নির্দেশনাসমূহ মেনে চলতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী পলক বলেছেন, বর্তমানে দেশে ৫ হাজার গুণ ভিপিএন ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে বিদেশী আইপিতে যুক্ত হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারে ব্যান্ডউইথের ওপর চাপ বাড়ছে। একইসঙ্গে সাত লাখ ফ্রিল্যান্সারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কাছে পাঠানো প্রশ্নের জবাবে টিকটক আন্তরিক ভাবে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে ফেসবুক ও ইউটিউব এর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। আগামীকাল সকাল পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে উত্তর পাওয়ার সময় রয়েছে। উত্তর সন্তোষজনক হলে এগুলো খুলে দেয়া হবে।

বুধবার সকাল ৯টায় বিটিআরসি’তে টিকটক, ১০টায় ফেসবুক এবং ১১টায় ইউটিউব প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সাংবাদিকদের অপর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ১০ দিনে গত ৮টি ওয়েব সাইট ও ৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা হয়েছে। ওয়েবসাইটগুলোতে ৫০ হাজারেরও বেশি বার আঘাত হানা হয়েছে। তবে এতে সরকারের কোনো আর্থিক বা অনার্থিক ক্ষতি হয়নি।

তবে আক্রান্ত হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইট হ্যাক হয়নি বলে জানিয়েছেন পলক। তিনি বলেছেন, প্রতিরোধ, প্রতিরক্ষা এবং পোস্ট ইনসিডেন্ট রেসপন্স প্রতিপালনের পাশাপাশি ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যাসেসমেন্ট টিম ও হোয়াইট হ্যাকার ফোরাম গঠন করা হবে।

এসময় সাইবার হামলা মোকাবেলার জন্য তিন ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেন ডাক, টেলিযেগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রিভেনটিভ মেজার, ইনসিডেন্ট রেসপন্স, ও পোস্ট ইনসিডেন্ট রেসপন্স ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবেলায় আমরা কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারি। এগুলো হলো আক্রান্ত হলে ওয়েবসাইটটাকে অফলাইনে নিয়ে যাওয়া, নিয়মিত পাসওয়ার্ড আপডেট করা, যেকোন পোর্টালে লগইনের ক্ষেত্রে মাল্টি ফেক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করা, সিকিউরিটি অডিট করা।

ইন্টারনেটের ধীর গতি বিষয়ে পলক বলেছেন, আমরা ইন্টারনেটে কোনো রেস্ট্রিকশন রাখিনি, কোনো বাধা রাখিনি। আমাদের টেকনিক্যাল পার্সনরা বলেছেন যে, প্রায় ভিপিএন ব্যবহারের ফলে ইন্টারনেট ৫ হাজার শতাংশ বেড়েছে। যারা ভিপিএন ব্যবহার করছে তারা অন্য দেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। ফলে বিদেশে ব্যান্ড উইথের ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। এটা অন্যতম কারণ ইন্টারনেট স্লো থাকার। 

ভিপিএন ব্যবহারে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে কিনা- এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ভিপিএন ব্যবহারে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে। ভিপিএন অ্যাপ্লিকেশনগুলো আমরা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারাই ব্যবহার করি না কেন, আমাদের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়েছেন যে ভিপিএন ব্যবহার করা মানেই হচ্ছে ডেটা ঝুঁকির মধ্যে পড়া। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়েছেন যেন আমরা গণমাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারের সব পর্যায়ে এ বার্তা পৌঁছে দেই যে, ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার করা আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।